
সিলেটে বিয়ের ১৬ দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী কারাগারে
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিয়ের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় আগুনে দগ্ধ হয়ে রেছনা বেগম (২৩) নামে এক নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বামী আবদুল মালিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
নিহত রেছনা বেগম বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্দ বিলপাড় গ্রামের আবদুল মালিকের (৩৪) স্ত্রী এবং অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের আবদুশ শহীদ সরকারের মেয়ে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে স্বামীর বাড়িতে আগুনে দগ্ধ হন রেছনা বেগম। পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ: পরিকল্পিত হত্যা
রেছনার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। নিহতের চাচা আবদুল সাত্তার বলেন,
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, রেছনাকে নির্যাতনের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত মামলা করব।”
এ ঘটনায় পুলিশ আবদুল মালিককে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
শ্বশুরবাড়ির দাবি: দুর্ঘটনা

অন্যদিকে, আবদুল মালিকের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। সকালে তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সে সময় ঘরে ছিলেন শুধু রেছনা ও আবদুল মালিকের আট বছর বয়সী এক ভাগনি।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রান্নাঘর থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে রেছনাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পুলিশি বক্তব্য
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন,
রেছনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।