
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা (দক্ষিণখান)
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | রাত ১০:১৮
রাজধানীর দক্ষিণখানে চাঁদা না দেওয়ায় যুবলীগের এক নেতাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করা হলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসা দখলের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নিহত যুবলীগ নেতার নাম শাহজাহান ডিলার (৪৫)। তিনি দক্ষিণখান এলাকার আশকোনা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি ছিলেন এবং একই সঙ্গে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মৃত্যুর আগেই নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণখানের নদ্দাপাড়া এলাকার তালতলা মোড়ে শাহজাহান ডিলারের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র এবং সন্দেহভাজনদের ফেলে যাওয়া একটি ক্যাপ জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার মঙ্গলবার মধ্যরাতে ডিএমপির দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই সোহেল রানা জানান, সরকার পতনের পর থেকে শাহজাহানের কাছে একাধিকবার চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন, “মৃত্যুর দুই দিন আগেও ভাই ভাবিকে বলেছিলেন—তিনি হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না।”
আরেক স্বজন নাহিদ পারভেজ জানান, ৫ আগস্টের পর চাঁদা দাবির বিষয়ে থানায় একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। গ্রেপ্তার হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।