বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জুড়ীতে পানিতে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব,

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান জরুরি : খন্দকার মুক্তাদির

Reporter Name

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেটে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য গভীর উদ্বেগজনক। অতীতে বিএনপি সরকার সন্ত্রাস দমনে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। একইভাবে জাতীয় নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে অতীতের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, গত দেড় দশক ধরে দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। পরপর তিনবার দিনের ভোট রাতে হওয়ার মতো অস্বাভাবিক নির্বাচন হয়েছে। এবার জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। অতীতে বিএনপির শাসনামলে কেউই দলীয় পরিচয়ে অপরাধ করে পার পায়নি। ভবিষ্যতেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ থাকবে না।

মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নির্বাচিত হলে তার কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিলেটের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কর্মসংস্থানের অভাব। পাথর কোয়ারি, ইটভাটা ও পরিবহন খাত ছাড়া বড় কোনো শিল্প নেই। ফলে তরুণ সমাজ বিদেশমুখী হচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারি নীতিসহায়তায় নতুন শিল্প স্থাপন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন, স্বল্পমূল্যে সার-বীজ বিতরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সিলেটের কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছিল। কিন্তু বিগত সময়ে এ খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা ও নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। সুরমা নদীর দুই তীর সংরক্ষণ করে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক ও রেল যোগাযোগ ‘এ ক্লাস’-এ উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর। সভায় বিএনপি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।