বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামী হ’ত্যা, স্ত্রী ও প্রেমিক আটক

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক। ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ নভেম্বর চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বরদানগর দক্ষিণপাড়া গ্রামে। নিহত শের আলী (৩৫) ওই গ্রামের ভোলা প্রামাণিকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিষয়টি মেনে নেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হন, মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।

অভিযোগে জানা যায়, শের আলীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই অর্থের একটি বড় অংশ নিহতের স্ত্রী শারমিন খাতুন (২৬) নিয়মিতভাবে তার প্রেমিক অনিক (২২)-কে দিতেন। শারমিন কাটেঙ্গা গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে এবং অনিক একই গ্রামের মহাজন সরকারের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফেসবুক মেসেঞ্জার চ্যাট ঘেঁটে টাকা লেনদেন ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর কৌশলে শারমিনের মোবাইল থেকে অনিককে এলাকায় আসার জন্য মেসেজ পাঠানো হয়।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে অনিক এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে শারমিনকেও আটক করা হয়।

স্থানীয়দের সামনে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে শারমিন জানান, ঘটনার দিন তিনি একসঙ্গে প্রায় ১০টি ঘুমের ওষুধ তার স্বামীকে খাওয়ান। ওষুধ খাওয়ার পর শের আলীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে মনে করে পরিবারের সদস্যরা দাফন সম্পন্ন করেন।

নিহতের মা শিরীনা খাতুন বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযোগ না থাকায় কাউকে আটক করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও স্থানীয়দের চাপের মুখে পুলিশ পুনরায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পাবনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।