বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

খুলনা আদালত চত্বরে দিনের আলোয় গুলি ও চাপাতির হামলা — দুইজন নিহত!

Md Rahim

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

খুলনার আদালত এলাকায় দিনের বেলায় প্রকাশ্য হামলায় দুই যুবককে গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা স্থানীয় এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে ঘটে এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। নিহতরা হলেন—খুলনা নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা হাসিব হাওলাদার ও তাঁর সহযোগী রাজন।

ঘটনার আকস্মিকতা, দুর্বৃত্তদের ভয়ংকর হামলার ধরন এবং আদালত এলাকার মতো নিরাপদ স্থানে এমন হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে পুরো খুলনা নগরীতে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও উদ্বেগের ছাপ।

—

হামলার আগে কী করছিলেন নিহত দুইজন

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অস্ত্র আইনের একটি মামলায় জামিনে থাকা হাসিব ও রাজন সেদিন আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে দু’জন আদালত ফটকের পাশে মোটরসাইকেল রেখে চায়ের দোকানে বসেছিলেন। ঠিক সেই সময় হেঁটে আসা চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে যাবতীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে টার্গেট করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দু’জন মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা এক মুহূর্ত দেরি না করে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। দ্রুততা এবং নির্মমতার কারণে আশপাশে থাকা লোকজন কেউ এগিয়ে গিয়ে তাদের থামাতে পারেনি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

—

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“হামলার খবর পেয়ে দ্রুত আহত দুইজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁদের পৌঁছানোর আগেই মৃত ঘোষণা করেন।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও চাপাতির আঘাতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

—

পরিবারের শোক ও বিভ্রান্তি

নিহত হাসিবের ভাই শাকিল হাওলাদার বলেন,
“কয়েক দিন আগে একটি অস্ত্র মামলায় আমার ভাইকে আসামি করা হয়। সেই মামলার হাজিরা দিতেই আজ আদালতে এসেছিলেন। কারা এই হামলা করল বা কেন করল—আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের কোনো শত্রুতা আছে বলেও জানা নেই।”

পরিবারের দাবি, এমন পরিকল্পিত ও ভয়ংকর হামলার পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ আছে, যা তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।

—

পুলিশ বলছে—এটি পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন,
“এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। আদালতের প্রধান ফটকের সামনে এ ধরনের হামলা সাহসী ও পূর্বপরিকল্পিত। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে—দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল এবং টার্গেট নিশ্চিত করে হামলা চালিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আদালত চত্বরে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনার পরই এলাকা ঘিরে ফেলেছে। আশপাশের দোকান, রাস্তা ও আদালত ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের গতিপথ, অবস্থান ও ব্যবহৃত যানবাহনের তথ্য খুঁজে দেখা হবে।

—

তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে—

হামলাকারীদের সংখ্যা ৪–৫ জন

তারা অস্ত্রসহ হেঁটে আদালত এলাকায় প্রবেশ করে

হামলার পর দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়

ঘটনাস্থল থেকে একাধিক গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে

প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল নেটওয়ার্ক, লোকেশন ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে

আদালত এলাকার সিসিটিভির ৮টির বেশি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে

পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করা শুধু সময়ের ব্যাপার।

—

আইনজীবীরা বলছেন—আইনশৃঙ্খলার জন্য ‘বড় হুমকি’

আদালতের আইনজীবীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,
“দেশের বিচার ব্যবস্থার অন্যতম নিরাপদ স্থান এই আদালত এলাকা। সেখানে এমন নির্মম হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে।”

অনেকে এটিকে বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

—

স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে

ঘটনার পরপরই আদালতসংলগ্ন এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষজন আতঙ্কে আশপাশ থেকে সরে যায়। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন—“আদালতের মতো জায়গায় যদি এমন হত্যাকাণ্ড হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ কোথায়?”

—

উপসংহার

দিনদুপুরে আদালত চত্বরে গুলি ও চাপাতির মতো ভয়ংকর অস্ত্র দিয়ে দুইজনকে হত্যা—এটি খুলনার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়াবহ ঘটনা। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও স্থানীয়দের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে।

—

সত্য এবং সঠিক সংবাদ ফলো করে সাথেই থাকুন — সিলেটি চ্যানেল
ছবি সংগৃহীত