শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন, জুড়ীতে পানিতে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ,

সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড

Reporter Name

 

প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে গার্মেন্টকর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যা মামলায় তাঁর সাবেক স্বামী ও স্বামীর এক বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গাজীপুরের জয়দেবপুরের বুরুলিয়া গ্রামের মুছা খানের ছেলে নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের আদম আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২০)।

মামলার নথি ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত রুনা আক্তার সাথীর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আসারগাঁও এলাকায়। তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে বাসের হেলপার নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।

পরবর্তীতে ওই সন্তানকে নাজমুল তাঁর বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাথী ও নাজমুলের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

মামলার নথি অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টে যাতায়াতের পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে তাঁকে সিলেটে নিয়ে আসেন নাজমুল।

এর পরদিন দুপুরে নাজমুল ও তাঁর বন্ধু সুজন সাথীকে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানেই তাঁকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে নিহত সাথীর বাবা নাজমুল হক গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের তদন্তে নাজমুল হাসান খান গ্রেপ্তার হন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ উঠে আসে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খান ও সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান।

মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত বুধবার দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আল আসলাম মুমিন। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন ফারহানা হাবিব চৌধুরী।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক