মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: এম ডি রহিম

 

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: এম ডি রহিম

কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েন ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাজনগর থানার বাংলা টিলা (পণ্ডিত নগর) গ্রামের এস.এম. ইলিয়াছুর রহমান (৩৬), শ্রীমঙ্গল থানার উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের মো. ইকরাম মিয়া (২৮), ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার শ্যামলী এলাকার তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান (৬১) এবং একই থানার মোহাম্মদিয়া হাউজিং এলাকার মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৭)।

পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা, ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্যের দিকনির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে এস.এম. ইলিয়াছুর রহমান ওরফে ইলিয়াছি ওরফে রমজান এবং মো. ইকরাম মিয়াকে শ্রীমঙ্গল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাহের-উল-ইসলাম ওরফে আখতারুজ্জামান ওরফে মিজানুর রহমান মজন এবং মো. ইব্রাহিম বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি এন্টিক পাওয়ার কয়েন জব্দ করা হয়, যার কথিত মূল্য ২০০ কোটি টাকা বলে প্রচার করা হতো। এ ছাড়া একটি নোহা গাড়ি, একটি পকেট রাউটার, আটটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন নামে ৫০০টি ভিজিটিং কার্ড, ৯৪ পাতা ভুয়া বিজনেস এগ্রিমেন্ট, তিনটি চেকবই, একটি কয়েন ব্ল্যাংক অ্যালবাম ও একটি ডায়েরি জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১০টি সিমকার্ড, ১০০ টাকা মূল্যমানের ছয়টি ভুয়া স্ট্যাম্প এবং ‘এন্টিক গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর নামে একটি ভুয়া সার্টিফিকেটও জব্দ করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তাদের কথিত পরিচয়ের ক্ষেত্রে Heritage Auction, Lockheed Martin, BlackRock, Microsoftসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, ২০২৩ সালে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এ ধরনের প্রতারণার একটি মামলায় তাহের-উল-ইসলাম ওরফে আখতারুজ্জামান ওরফে মিজানুর রহমান মজনসহ চারজন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

পুলিশের দাবি, কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা পুলিশ, মৌলভীবাজারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক বা দ্রুত বিপুল অর্থ লাভের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের লাভের প্রস্তাব দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কাগজপত্র ও সম্পদের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করে তবেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।