শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার তাহিরপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধী বানিয়াচংয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন, জুড়ীতে পানিতে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’

জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক 

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল কালাম বুলুচাঁন (৩৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আছমা বেগম (৩৮) ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তার (১৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে ভাসমান অবস্থায় আবুল কালামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত আবুল কালাম পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড় ধামাই গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় নিউমার্কেট সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের নিয়মিত চালক ছিলেন। গ্রেপ্তার আছমা বেগম পাশের গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম দুটি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন আছমা বেগমের ননদ। আছমার স্বামী বশির আহমদ মারা যাওয়ার পর তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন।

পরিবারের খরচ চালাতে আছমা একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে সেটি ভাড়ায় চালানোর জন্য আবুল কালামকে দেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে কালামের ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে আছমা বেগমের সঙ্গে আবুল কালামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে কালাম আছমাদের বাড়িতে যাওয়ার পর আর নিজ বাড়িতে ফিরে যাননি।

এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ী নদীতে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে আবুল কালামের গলায় একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি কালামের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে পুলিশ কালামের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে আছমা বেগম ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তারের বিষয়ে তথ্য পায়। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বর্ণনা

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা বেগম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আবুল কালাম আছমা বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে সামাজিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আছমা ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে আছমা বেগম একটি দা দিয়ে আবুল কালামকে তিনটি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে আছমা জানিয়েছেন।

পরে মেয়ে লিমাকে সঙ্গে নিয়ে একটি কলাগাছের ভেলায় মরদেহ বেঁধে বাড়ির পাশের একটি খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে মরদেহটি জুড়ী নদীতে ভেসে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া এসব তথ্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক নথির অংশ হবে।

হত্যায় ব্যবহৃত দা ও মুঠোফোন জব্দ

পুলিশ জানিয়েছে, আছমা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা এবং নিহত আবুল কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে এবং আদালতে তাঁদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক