শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার তাহিরপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধী বানিয়াচংয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন, জুড়ীতে পানিতে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’

সীমান্ত রুটে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ ‘সিগারেট সাম্রাজ্য’:

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

প্রকাশিত ৯,৮,২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

প্রধান সীমান্ত রুট দিয়ে দেশে আসা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মৌলভীবাজার ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ সীমান্ত—এই চারটি রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন, মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সিগারেট দেশে প্রবেশের পর তা মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ

সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই কথিত নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ কীভাবে একাধিক সীমান্ত রুটে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং সিলেট বিভাগের অবৈধ সিগারেট সরবরাহ ব্যবস্থায় তার ভূমিকা কতটা—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তার পেছনে কোনো অর্থদাতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বড় কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আট রুটের মধ্যে চারটি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহ ব্যবস্থায় অন্তত আটটি রুট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালান পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক কাজ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী রুট এবং পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘মুন্না ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, প্রশ্ন

স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট সরবরাহ নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে যার নাম উঠে আসছে, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনায় কোনো মামলা বা আইনগত অভিযোগ রয়েছে কি না।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা চললেও কথিত নেটওয়ার্কের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

তবে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট থানার নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

গোপন চেইনে চলে সরবরাহ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সীমান্ত ব্যবসায়ীর দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথিত ‘মুন্না ভাইয়ের’ সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে করে সরবরাহ ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের বিস্তারের কারণে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

শুধু চালান আটক নয়, মূলহোতাদের শনাক্তের দাবি

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক বা বাহককে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। এর সঙ্গে জড়িত অর্থদাতা, মূলহোতা, পরিবহনকারী, মজুদকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের প্রত্যেক স্তরের ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনো সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকে, তাহলে এর অর্থের উৎস, চালানের মালিকানা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

তানিম মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি

তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের প্রবেশ ও সরবরাহের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করা হোক। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।