শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার তাহিরপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধী বানিয়াচংয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন, জুড়ীতে পানিতে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’

রোজিনা হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে!হুমকি ও আপসের প্রস্তাবের অভিযোগ,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২৬
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্কুলশিক্ষিকা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রোজিনা বেগম (৩২) হত্যার এক বছরেরও বেশি সময় পর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি রেজাউল করিম সাগরসহ সব আসামি বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আসামিরা বিভিন্নভাবে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং হত্যা মামলাটি আপস করে নেওয়ার জন্য বারবার প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। এ কারণে তারা দ্রুত বিচার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ মে কমলগঞ্জ উপজেলার ভাসানীগাঁও গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নৃশংসভাবে নিহত হন রোজিনা বেগম। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। ঘটনার রাতেই নিহতের বড় ভাই শাহজাহান আহমদ বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোজিনা বেগম একজন স্কুলশিক্ষিকা হওয়ার পাশাপাশি সিলেট আইন মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে জানা যায়। এছাড়া তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা ছিলেন এবং পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও বহন করতেন। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ভাসানীগাঁও গ্রামের নবদূত পাঠশালা (কেজি স্কুল)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক প্রয়াত নিজাম উদ্দীনের কনিষ্ঠ কন্যা ছিলেন রোজিনা। এলাকার মানুষের কাছে তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তাঁর ১২ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ কৃষিজমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় রোজিনা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিনজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি রেজাউল করিম সাগর ছাড়া অন্য আসামিদের পুলিশ পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করে। পরে সাগর উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তিনিও জামিনে মুক্তি পান।

মামলার বাদী শাহজাহান আহমদ বলেন, তাঁর বোনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন জামিনে থাকা আসামিরা পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং মামলা আপসের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তার আশঙ্কায় তারা কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আইনি জটিলতা বা কৌশলের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয় এবং দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়, সেটিই তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রনি তালুকদার বলেন, যথাযথ তদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও আপসের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।