
প্রকাশিত, ১১,৫,২০২৬,সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় টিকটক ভিডিও করার সময় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক কিশোর নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের ডাবর–জগন্নাথপুর সড়কের সিচনী ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোরের নাম নিরব মিয়া (১৫)। তিনি ইসলামপুর গ্রামের তাদির ইসলামের ছেলে এবং আক্তাপাড়া মাদরাসার ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত কিশোর সাকিবুর ইসলাম (১৫) একই গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে এবং একই মাদরাসার শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরব মিয়া তার চাচার নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে সহপাঠী সাকিবুর ইসলামকে সঙ্গে করে পাগলা বাজার এলাকায় যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে তারা টিকটক ভিডিও করার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল চালানোর সময় অতিরিক্ত গতিতে নিয়ন্ত্রণ হারায়।
এক পর্যায়ে সিচনী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয় দুই কিশোর।
দুর্ঘটনায় নিরব মিয়া মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত সাকিবুর ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
নিহত নিরবের চাচাতো ভাই সাদেক মিয়া জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়েই নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে তারা বের হয়েছিল। অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই কিশোরই স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী হওয়ায় সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোক ও কান্নার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
শান্তিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নোবেল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, তরুণদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরসাইকেল চালানো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও করার প্রবণতা বাড়ছে, যা এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।