
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ছয় তলা থেকে শ্বুকলা সিং (২৪) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শ্বুকলা সিং শহরের মৌলভীবাজার আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল–এর রিসিপশন (অভ্যর্থনা) শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে শ্বুকলার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি ভবনের অন্য বাসিন্দাদের নজরে আসে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সময় ভবনটির আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। স্থানীয়দের অনেকেই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের ব্যক্তিগত জীবন, কর্মস্থল ও সাম্প্রতিক চলাফেরা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
যদিও প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তাও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ঘটনার আগে তরুণীকে মানসিকভাবে কিছুটা উদ্বিগ্ন মনে হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
শ্বুকলা সিংয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার সহকর্মী ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মীরা জানান, তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করতেন। তার এমন মৃত্যুর খবর তারা মেনে নিতে পারছেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরুণ-তরুণীদের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক একাকীত্ব ও হতাশা অনেক সময় এ ধরনের ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে।
তারা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবার-সমাজের আরও আন্তরিক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।