রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শাহজালালের মাজারে পঞ্চম দফার গণনায় মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা, পাঁচ দফায় মোট ৩ কোটি ১৩ লাখ সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার কামাল আহমদকে, শ্রীমঙ্গলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা, শিশুর মৃত্যু, আহত ৩ সুনামগঞ্জে বৃদ্ধ মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে নুরু আলম আটক শ্রীমঙ্গলে ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৩, অভিযানে কর্মকর্তাকে কামড় সিলেটে হাসপাতালের ভেতরে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে সুমেল খাঁর যাবজ্জীবন মৌলভীবাজারে তরুণীসহ অনয় দেবনাথকে আটকের দাবি, মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযান, ২৯ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

শাহজালালের মাজারে পঞ্চম দফার গণনায় মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা, পাঁচ দফায় মোট ৩ কোটি ১৩ লাখ

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের পঞ্চম দফার গণনায় পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা।

এ নিয়ে পাঁচ দফায় মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকা। সর্বশেষ গণনায় নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ গণনা করা হয়। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে মাজারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। গণনা শেষে সংগৃহীত নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনার এ কার্যক্রমকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। এর আগে চার দফায় দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছিল। সর্বশেষ পঞ্চম দফার গণনায় পাওয়া অর্থ যোগ হওয়ায় পাঁচ দফায় সংগৃহীত নগদ অর্থের পরিমাণ তিন কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

পঞ্চম দফায় পাওয়া গেল স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা

শনিবারের গণনায় নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। গণনায় পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ, ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি এবং ১৪ পাউন্ড। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের আরও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

মাজারের দানবাক্সে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতু ও বিদেশি মুদ্রা জমা হওয়ার বিষয়টি আগের গণনাগুলোতেও দেখা গেছে। সর্বশেষ গণনায় পাওয়া এসব সামগ্রীও সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে হিসাবভুক্ত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গণনা কার্যক্রমে মাজারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পাশাপাশি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবীও অর্থ গণনায় অংশ নেন। গণনা শেষে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।

চার দফায় জমা হয়েছিল ২ কোটি ২৪ লাখের বেশি টাকা

এর আগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া অর্থ চার দফায় প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। প্রথম দফায় গত ২২ জুন গণনায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত হলে ওই দফার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় গত ১১ জুলাই গণনায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা।

চতুর্থ দফায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া অর্থ গণনা করা হয়। ওই দফায় পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। সে সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া গিয়েছিল।

চার দফার গণনায় পাওয়া অর্থের সঙ্গে পঞ্চম দফায় পাওয়া ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা যুক্ত হওয়ায় পাঁচ দফায় নগদ অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকা।

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ব্যাংকে জমা

মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ গণনা ও সংরক্ষণের কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। শনিবারের গণনা শেষে সংগৃহীত নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে গণনা এবং ব্যাংক হিসাবে অর্থ সংরক্ষণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ পঞ্চম দফার গণনায় পাওয়া অর্থসহ পাঁচ দফায় সংগৃহীত নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকা। এর পাশাপাশি পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রাও সংরক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।