রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শাহজালালের মাজারে পঞ্চম দফার গণনায় মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা, পাঁচ দফায় মোট ৩ কোটি ১৩ লাখ সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার কামাল আহমদকে, শ্রীমঙ্গলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা, শিশুর মৃত্যু, আহত ৩ সুনামগঞ্জে বৃদ্ধ মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে নুরু আলম আটক শ্রীমঙ্গলে ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৩, অভিযানে কর্মকর্তাকে কামড় সিলেটে হাসপাতালের ভেতরে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে সুমেল খাঁর যাবজ্জীবন মৌলভীবাজারে তরুণীসহ অনয় দেবনাথকে আটকের দাবি, মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযান, ২৯ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে থাকা ৩০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সাদেক হোসেন।

ঘটনার পর থেকে আলোচনায় এসেছে, এত ভোরে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন বদরুল আলম ও সাদেক হোসেন? তবে টাকা বহনের কারণ ও হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত বদরুল আলমের পরিচয়

নিহত বদরুল আলম গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপার গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই ছেলের জনক বদরুল পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বালুর ব্যবসা এবং গরুর খামার পরিচালনা করতেন।

৩০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ

ঘটনার সময় বদরুল আলমের সঙ্গে ছিলেন সাদেক হোসেন। হামলায় তিনিও আহত হন। সাদেকের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে থাকা ৩০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় হামলাকারীরা তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বদরুল নিহত হন এবং সাদেক আহত হন।

সাদেক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে তাঁরা মনরতল বাজার থেকে হাদারপারে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা ছিল। ভোরের দিকে গোরাগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করে।

এ সময় হামলাকারীরা তাঁদের কাছে থাকা টাকা, মুঠোফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন সাদেক। এতে বাধা দিলে হামলাকারীরা দা, চাকু ও ছুলফিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। সাদেকের দাবি, হামলায় ঘটনাস্থলেই বদরুলের মৃত্যু হয়।

ব্যবসার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, দাবি স্বজনের

নিহত বদরুলের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়ার দাবি, তাঁর ভাই ব্যবসার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে কয়েকজন তাঁর ভাইয়ের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে হামলা চালায়। এতে বদরুল নিহত হন।

তবে ৩০ লাখ টাকা কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কী উদ্দেশ্যে তা বহন করা হচ্ছিল কিংবা টাকা ছিনিয়ে নেওয়াই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

টাকা বহনের বিষয়ে জানেন না ওসি

টাকার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি শোনেননি। এত টাকা নিয়ে বদরুল কোথায় যাচ্ছিলেন কিংবা এর কারণ কী হতে পারে, তা তাঁর জানা নেই।

অন্যদিকে, গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে বদরুল ও সাদেকের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া জানান, সাদেকের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে কয়েকজনকে বদরুলের ওপর হামলা করতে দেখেন বলে দাবি করেন তিনি। হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁদের থামাতে পারেননি।

পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকে বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

যুবদলের কমিটিতে থাকা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য

ওসি আরও বলেন, বদরুল আলম আগে ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি যুবদলের কোনো কমিটিতে নেই। তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করতেন।

গোয়াইনঘাটে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩০ লাখ টাকা বহনের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে টাকা বহনের প্রকৃত কারণ, হামলার উদ্দেশ্য এবং হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সূত্র: প্রদত্ত সংবাদ প্রতিবেদন

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সত্য এবং সঠিক সংবাদ ফলো করে সাথেই থাকুন — সিলেটি চ্যানেল মিডিয়া।