প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেট প্রতিনিধি
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের হিসাবেও এবার ছাড়িয়েছে আগের দফাগুলোর রেকর্ড। চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে গণনা শেষে পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এর সঙ্গে মিলেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বিভিন্ন মুদ্রা।

৩৪ দিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে মাজারের দানবাক্স ও মানতের ডেগের সিলগালা খোলার মাধ্যমে শুরু হয় চতুর্থ দফার গণনা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী দিনভর এসব অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন।
সন্ধ্যার দিকে গণনা শেষ হলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী চতুর্থ দফার হিসাব প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা জমা হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি এবার স্বর্ণ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
চতুর্থ দফায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে—ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ৯৫৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯.২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭.২৫ দিরহাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১.৫০ রিয়াল, ৩০.১০ ইউরো, বাহরাইনের ০.২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ।
এছাড়া দানবাক্স থেকে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ পাওয়া গেছে।
মাজারে নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি দান হিসেবে পাওয়া গরু-ছাগলেরও হিসাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দান হিসেবে ৬টি গরু ও ১১০টি ছাগল পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য ৫টি গরু ও ৭০টি ছাগল জবাই করা হয়েছে।
এছাড়া ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার কর্মীদের মজুরি দেওয়া হয়েছে। বাকি ১টি গরু ও ১টি ছাগল দরিদ্র দুই মেয়ের বিয়েতে দান করা হয়েছে।
এর আগে তিন দফায় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে অর্থ গণনা করা হয়।
গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স খুলে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত হলে ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময়ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্য সামগ্রী পাওয়া যায়।
এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খোলা হয়। ওই দফায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। তখনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা ও রূপার অলংকার পাওয়া যায়।
তিন দফায় নগদ অর্থের হিসাবে পাওয়া যায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। তবে প্রথম দফায় জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে যুক্ত করা ৫ লাখ টাকার চেকসহ তিন দফার মোট হিসাব দাঁড়ায় ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।
চতুর্থ দফায় পাওয়া ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা যোগ করলে চার দফায় নগদ অর্থের হিসাব দাঁড়ায় ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা। আর প্রথম দফার ৫ লাখ টাকার চেকসহ হিসাব করলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।
মাজারের দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হচ্ছে। এসব অর্থের ব্যবহার নিয়ে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটি পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক