প্রকাশিত, ২২,৬,২০২৬| সিলেট চ্যানেল
সিলেটের পবিত্র হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে মাত্র তিন দিনে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকারও বেশি। আর এই অর্থ গণনাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা। কারণ, শত শত বছরের প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে মাজারের দানের অর্থ গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজার প্রাঙ্গনে স্থাপিত নতুন দানবাক্স এবং সিলগালা করা ঐতিহ্যবাহী ডেগ খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। গণনার সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাজার প্রাঙ্গণে উৎসুক ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়ও দেখা যায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্রশাসনের এসব উদ্যোগের পর মাজারকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, সোমবার মাজার প্রাঙ্গনে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে অনেকেই ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনো প্রকাশ্যে এভাবে দানের টাকা গণনা করা হয়নি।
মাজারে উপস্থিত অনেক দর্শনার্থী ও ভক্তদের মতে, ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক বদলি সরকারি কার্যক্রমের স্বাভাবিক অংশ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, মাত্র তিন দিনে ডেগে জমা হওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং শত শত বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সেই অর্থ গণনার ঘটনাটি এখন সিলেটসহ সারা দেশে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দান ও আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রকাশ্য অর্থ গণনার উদ্যোগকে আপনি কীভাবে দেখছেন?