সামাজিক অপমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ভুক্তভোগী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণীর ব্যক্তিগত ভিডিও ও আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবারের ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও নানা হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনাটি কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের একটি এলাকার বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, এক প্রবাসী পরিবারের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে। পরে মেয়েটির অন্যত্র বিয়ের আলোচনা শুরু হলে অভিযুক্ত যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিহিংসার জেরে অভিযুক্ত যুবক তরুণীর ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। শুধু অনলাইনেই নয়, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছেও এসব ভিডিও ও ছবি পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর সামাজিকভাবে অপমানিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ওই তরুণী। পরিবারের দাবি, মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
বর্তমানে তরুণী ও তার পরিবার ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পরিবার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিবারের দাবি, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি মামলা করলে “জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগীর এক আত্মীয় বলেন,
আমরা এখন চরম আতঙ্কে আছি। প্রতিদিন বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা শুধু সুষ্ঠু বিচার চাই এবং নিরাপদে বাঁচতে চাই।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এ ঘটনাকে নারী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধের জঘন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো দ্রুত অপসারণে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহযোগিতাও চেয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, প্রতিশোধমূলক প্রচার ও অনলাইন হয়রানির ঘটনা দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা এবং দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভুক্তভোগীরা সামাজিক ও মানসিকভাবে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।