
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসীরা। এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার অন্তত ৮ জন প্রবাসী ব্রিটেনের বিভিন্ন কাউন্সিলে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বিদেশের মাটিতে তাদের এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্বে ভাসছে মৌলভীবাজারসহ পুরো সিলেট অঞ্চল।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় এই বিজয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয়দের মতে, ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেশের ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
জানা গেছে, গত ৭ মে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিভিন্ন কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একাধিক প্রার্থী। তাদের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার ৮ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
ব্রিটেনপ্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার ও গণমাধ্যমকর্মী জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার ৮ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তবে আরও কয়েকজন প্রার্থী অল্প ব্যবধানে পরাজিত হওয়ায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারতো বলে ধারণা করছেন প্রবাসী নেতারা।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই পড়াশোনা, চাকরি বা জীবিকার প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মেধা, পরিশ্রম, সততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেন।
প্রথমে কমিউনিটি পর্যায়ে নেতৃত্ব দিলেও পরে তারা যুক্ত হন ব্রিটেনের জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, কমিউনিটি উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেন তারা।
এসপায়ার পার্টি থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্টেপনি গ্রিন ওয়ার্ডে টানা চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের উছমানপুর গ্রামে।
লেবার পার্টি থেকে পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিলে চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে নিউহ্যামের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রেডব্রিজ কাউন্সিলে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ওই কাউন্সিলের সাবেক মেয়রও ছিলেন। তার বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নে।
লেবার পার্টি থেকে রেডব্রিজ কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত।
এসপায়ার পার্টি থেকে টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট ওয়ার্ডে দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
নর্থ ইংল্যান্ডের ব্রাডফোর্ড কাউন্সিলে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন।
লন্ডন বোরো অফ ইসলিংটনের বার্নসবারি ওয়ার্ডে ষষ্ঠবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। তিনি ওই বারার সাবেক মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইংল্যান্ডের ওয়েল্ডস্টোন নর্থ ওয়ার্ড থেকে আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেশে-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট ও বার্তা শেয়ার করা হচ্ছে।
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের সাফল্যকে বাংলাদেশি কমিউনিটির গর্ব হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেকে।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলছেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এমন সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তারা মনে করছেন, প্রবাসীরা শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি প্রমাণ করে যে প্রবাসী কমিউনিটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
📌 প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সাফল্যকে মৌলভীবাজার তথা দেশের জন্য গৌরবের অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।