প্রকাশিত সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক ২৯,৪,২০২৬
মৌলভীবাজার কুলাউড়ায়,
জয়চণ্ডী ইউনিয়ন ও সংলগ্ন লস্করপুর পূর্বালী ছড়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে।

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মুহূর্তেই পানি ঢুকে পড়ে গ্রামের নিম্নাঞ্চলে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকার নদী ও ছড়াগুলোর পানির চাপ বেড়ে যায়। সেই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে হঠাৎ করেই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ফলে আশপাশের গ্রামগুলোতে দ্রুত পানি প্রবেশ করে এবং বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
হঠাৎ প্লাবনের কারণে অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল রক্ষা করতে না পেরে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
কেউ কেউ ঘরের জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও অধিকাংশেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপকভাবে।
এদিকে কৃষি খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়।
কৃষকদের ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ার পর এত দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যে কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলে যাওয়ার প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ পথ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না।
বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সমস্যার কারণে অনলাইনেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক শিক্ষার্থী জানান,
স্কুলে যাওয়ার এক কিলোমিটার রাস্তাটাই পানিতে ডুবে গেছে। তাই আমরা ঘর থেকে বের হতেও পারছি না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই এখনো ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নেননি। স্থানীয়দের দাবি, একজন কমিশনার ছাড়া আর কেউ কার্যকরভাবে পাশে দাঁড়াননি।
এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্যোগের সময়েও তাদের দুরবস্থার খোঁজ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনেকেই উদাসীন।
তবে এ বিষয়ে মোঃ মহিউ উদ্দিন জানান, তিনি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
হঠাৎ বাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি প্রবেশ করায় কুলাউড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ মানবিক সংকটে পড়েছেন। এখন তাদের একটাই দাবি— দ্রুত বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগই এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।