
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬,
রাত দেড়টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী।
স্ত্রী ঊর্মি হীরাকে তিনি বলেছিলেন, “ঘুমিয়ে পড়ো, আমার আসতে দেরি হবে।
[caption id="attachment_2138" align="aligncenter" width="300"]
ছবি সংগৃহীত[/caption]
এর পর আর পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি তার। বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি—আর সেই ঘুমই ডেকে আনে মর্মান্তিক পরিণতি।
জানা যায়, ঘুমের কারণে বাসটি কখন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ও কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করে যায়, তা টের পাননি বুলেট। পরে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে তিনি কুমিল্লায় নামার কথা জানান। বাসের হেলপার তাকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেয়, যা তুলনামূলকভাবে অনিরাপদ স্থান।
স্বজনদের দাবি, অল্প দূর এগোলেই তিনি আলেখারচর বিশ্বরোডের মতো নিরাপদ স্থানে নামতে পারতেন। কিন্তু ঘুমের বিভ্রম ও বাস কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তাকে নির্জন এলাকায় নামতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত তার জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
বুলেট বৈরাগীর মামা কার্তিক জানান, “স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর আর কারো সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।
ভুল জায়গায় নেমে যাওয়াতেই এই বিপদ ঘটে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা ধস্তাধস্তির ইঙ্গিত দেয়।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানায়, বাস থেকে নামার পর বুলেট বৈরাগী জাঙ্গালিয়ার দিকে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজছিলেন।
এ সময় সিএনজি অটোরিকশায় ওঁৎ পেতে থাকা একটি ছিনতাইকারী চক্র তাকে যাত্রী সেজে গাড়িতে তোলে।
পরে তার কাছ থেকে মোবাইল, ব্যাগ ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ সদস্যের একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই কুমিল্লার কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা।
সূত্র জানায়, বুলেট বৈরাগী প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও চাকরির সুবাদে কুমিল্লার রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বজনরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।