
২৩ মার্চ ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ভোক্তাদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পেট্রোল পাম্প চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাম্প মালিক সমিতি।
[caption id="attachment_1992" align="aligncenter" width="300"]
ছবির সংগৃহীত[/caption]
সোমবার (২৩ মার্চ) এক বার্তায় এ আহ্বান জানান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
সরবরাহ সংকটের কারণ
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী Iran-কে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় ভবিষ্যতে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাড়ছে ভোক্তার চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তাদের ভিড় বাড়ছে। অনেক স্থানে কর্মীদের মারধর, এমনকি পাম্পে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাম্প মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনকে চিঠি
এ বিষয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছেও বার্তার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বরাদ্দে অসামঞ্জস্য নিয়ে অভিযোগ
এদিকে, রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আলাদা এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, দেশের বিভিন্ন ডিপো—বিশেষ করে বাঘাবাড়ি ডিপো—থেকে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ট্যাংক লরির ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সাধারণত একটি ট্যাংক লরির প্রতিটি চেম্বারের ধারণক্ষমতা ৪৫০০ লিটার হলেও অনেক ক্ষেত্রে ২০০০ থেকে ৩০০০ লিটার করে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং পাম্প মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কালোবাজারের আশঙ্কা
চিঠিতে আরও বলা হয়, অনেক পাম্প মালিক তেল উত্তোলনে অপারগতা প্রকাশ করায় বিকল্প এজেন্সির মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কালোবাজারে জ্বালানি চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
করণীয় বিষয়ে আহ্বান
পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্যাংক লরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন স্বাক্ষরিত চিঠিটি যমুনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা অয়েল কোম্পানি এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।