প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রযুক্তি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দেশটির সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের একটি সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের সামরিক ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিশেষ করে একটি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ভবন হামলার আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
[caption id="attachment_1932" align="aligncenter" width="300"]
ইরান ইসরায়েল সামরিক হামলা[/caption]
ইরানের সামরিক সূত্র জানায়, অধিকৃত ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি অস্ত্র নির্মাণ কমপ্লেক্সে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় নির্দিষ্ট সামরিক অবকাঠামোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু করা সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্রটি ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য উন্নত গাইডেড অস্ত্র ব্যবস্থার সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহ করে থাকে। পাশাপাশি, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এই কেন্দ্রটি ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া ইরান অভিযোগ করে, এই ধরনের প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তাদের দেশের অভ্যন্তরেও সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতিতে এসব ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও স্বাধীনভাবে হামলার বিষয়টি যাচাই করতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তারা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে পরিস্থিতি গড়ায় না।