ডেস্ক রিপোর্ট | সিলেটি চ্যানেল
প্রকাশিত : শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য পাশের মসজিদে অবস্থান করায় মাদ্রাসার ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা এলাকায় অবস্থিত নোহাটা দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
[caption id="attachment_1431" align="alignleft" width="150"]
ছবি সংগৃহীত[/caption]
মুহূর্তের মধ্যেই টিনশেড ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষ, রান্নাঘর, পাঠদানের যাবতীয় সরঞ্জাম, কোরআন ও অন্যান্য বইপত্র, শিক্ষার্থীদের বিছানা ও পোশাক, নগদ অর্থসহ অধ্যক্ষের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত ৩৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় সবাই পাশের একটি মসজিদে জুম্মার নামাজে অংশ নিচ্ছিলেন।
মাদ্রাসা ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা তাফসিরুল ইসলাম হাবিবী বলেন,
নামাজ শেষে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখি পুরো মাদ্রাসা দাউদাউ করে জ্বলছে। কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে আল্লাহর রহমতে ভেতরে কেউ না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি।”
খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. শামছুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে শিক্ষার্থীদের সব পোশাক, থাকার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাদের আবাসন ও খাবার নিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ও পড়াশোনা পুনরায় শুরু করতে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।