সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০২৬-০১-০৩
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত পাঠ্যসূচিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ কিছু পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করা হয়েছে জুলাই আন্দোলন বিষয়ক নতুন পাঠ।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করার পর থেকেই বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রকাশিত সংস্করণগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একাধিক বইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের বিভিন্ন সংস্করণে ‘বঙ্গবন্ধু’ বিশেষণটি কিছু ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদিও কিছু অধ্যায়ে তা অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি পাঠ্যবই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণভিত্তিক পাঠটি বাদ দিয়ে জুলাই আন্দোলন নিয়ে নতুন একটি অধ্যায় সংযোজন করা হয়েছে।
একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়েও। ২০২৫ সাল পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে গদ্যাংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন সংস্করণে ওই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে বইটিতে আগে যেখানে ১২টি গদ্য ছিল, এবার সেখানে রাখা হয়েছে ১১টি গদ্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা থেকেও ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হলো।
এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের পর পাঠ্যবই পর্যালোচনার অংশ হিসেবে কিছু বিষয় সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে অতিরঞ্জিত উপস্থাপন বাদ দেওয়ার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই নির্দেশনার আলোকে পাঠ্যপুস্তকে সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি।
পাঠ্যবইয়ে এই পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।