প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | সময়: ০১:৪০ এএম
ডেস্ক রিপোর্ট সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে শুটার ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোসা. হাসি বেগম (৬০)। তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিবরণ
র্যাব জানায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চার সন্তানের মধ্যে শুটার ফয়সাল তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন মোসা. জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার রাতে তিনি একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং পরে ভবনের ফাঁকা জায়গায় ব্যাগটি ফেলে দেন। পরে তার ভাগনে জামিল (১৮) দিয়ে ব্যাগটি আবার উদ্ধার করান।
ফয়সাল তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি তার মায়ের কাছে দিয়ে যান। এরপর তিনি আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে তার চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় আশ্রয় নেন। এ সময় তার বাবা একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং কিছু টাকাও সরবরাহ করেন।
পরবর্তীতে তারা কেরাণীগঞ্জে ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের বাসায় গিয়ে জুরাইন এলাকা থেকে দুটি নতুন মোবাইল সিম সংগ্রহ করে ব্যবহার শুরু করেন।
অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
এদিকে র্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল ইসলাম জানান, রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় শুটার ফয়সালের বোনের বাসা সংলগ্ন স্থান থেকে ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ভরা ম্যাগাজিন ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর সকাল ১১টা ৫ মিনিটে ফয়সাল ও তার এক সহযোগী মোটরসাইকেলে করে ওই বাসা ত্যাগ করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে ফয়সাল, তার সহযোগী, মা ও ভাগনেকে ভবনের মাঝখানের ফাঁকা স্থান থেকে কিছু সরাতে দেখা যায়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এলাকা ছাড়েন।
পরবর্তীতে ওই স্থানেই অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
হত্যাচেষ্টার ঘটনা
এর আগে, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের বিজয়নগর এলাকায় রিকশাযোগে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকের একজন শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন তিনি।
এই ঘটনায় পুলিশ শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানকে প্রধান সন্দেহভাজন এবং আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে শনাক্ত করে। ইতোমধ্যে ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।