চার দিনে গ্রেফতার ২,৪৩৩ জন, উদ্ধার ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র
নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান জোরদার
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সহিংস ও ফ্যাসিস্ট তৎপরতা দমনে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ জোরদার করা হয়েছে। গত চার দিনে এই অভিযানে ২ হাজার ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র।
গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী সারা দেশে একযোগে এই বিশেষ অভিযান শুরু করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান শুরুর প্রেক্ষাপট
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর অভিযান, সহিংসতা ও ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম দমন এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ নামের এই অভিযান শুরু করা হয়।
চার দিনের অভিযানের সারসংক্ষেপ
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত চার দিনে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ২,৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, অবৈধ অস্ত্রধারী এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী উপাদান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ২৪ ঘণ্টার চিত্র
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই সময় উদ্ধার করা হয়েছে
৩ টি এলজি
১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান
রাইফেলের ৮ রাউন্ড গুলি
পিস্তলের ৪ রাউন্ড গুলি
৩ রাউন্ড কার্তুজ
২টি বার্মিজ চাকু
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এসব অস্ত্র নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতায় ব্যবহার হতে পারত।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার
নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, গ্রাম ও শহরের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যৌথবাহিনী জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।