অনলাইন ডেস্ক সিলেিট চ্যানেল
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি নিজেও শরিক থাকবেন।
তিনি বলেন,
গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-নগরে, বন্দরে, বাজারে-মহল্লায়, অলিতে-গলিতে ও রাজপথে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে নির্বাচনী মিছিল হবে, ইনশাআল্লাহ আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকবো।”
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন,
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি আন্দোলনেই প্রমাণিত হয়েছে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনতার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
বক্তব্য শুরুর আগে সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে স্লোগান দেন—
তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে; ২৫ তারিখ সারাদিন, বাংলাদেশের খুশির দিন।”
তারেক রহমান বলেন, জনগণকে ক্ষমতাবান করার একমাত্র পথ হলো জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা। এ কারণেই বিএনপি সবসময় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য একটি স্বার্থান্বেষী চক্র এখনো নানা অজুহাতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে গণতন্ত্রকামী নেতা ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন,
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা গেলে কারা লাভবান হবে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই ঘাতকদের চিহ্নিত করা যাবে।”
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,
দেশি-বিদেশি অপশক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তখনও সক্রিয় ছিল, এখনও রয়েছে। তাদের চরিত্র বদলায়নি।”
তিনি আরও বলেন,
“যারা গণতন্ত্রকামী জনগণকে ভয় দেখাতে চায়, তারা ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোলে ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হবে।”
বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে। ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ‘বিজয়ের নতুন ইতিহাস’ রচনার চেষ্টা লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“বিজয়ের বার্তাকে শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আবারও জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করে।”
তিনি জানান, ‘আগামী দশক হবে রূপান্তরের দশক’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি ‘দেশ গড়ার কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভা সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।