ডেস্ক রিপোর্ট | সিলেটি চ্যানেল
প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২৫,
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেবা স্বাভাবিক রাখার শর্তে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা
চাকরির স্বচ্ছ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধিমালা প্রণয়নের দাবিতে ঢাকা মেট্রো রেলের নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মেট্রো রেল ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ চাকরি বিধিমালার অভাবে ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। সরকারি বিধি-বিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি ‘বিশেষ বিধান’ বাতিল করে দ্রুত নতুন ও স্বচ্ছ চাকরি বিধিমালা প্রণয়ন তাদের প্রধান দাবি।
আন্দোলনরত কর্মীরা বলেন, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রো রেল চালু হওয়ার পর থেকেই তারা দিন-রাত নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় সূচনার পেছনে তাদের অবদান থাকলেও এখনো তারা স্থায়ী চাকরি বিধিমালার সুবিধা পাচ্ছেন না।
চাকরি বিধিমালা না থাকায় ছুটি, কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ), গ্র্যাচুইটি, শিফট অ্যালাউন্স, গ্রুপ ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা এবং যথাসময়ে পদোন্নতির সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কর্মচারীরা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একটি খসড়া চাকরি বিধিমালা প্রস্তুত করা হলেও তাতে বিতর্কিত ‘বিশেষ বিধান’ যুক্ত থাকায় সেটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে মেট্রো রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি অনিশ্চিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, এই ‘বিশেষ বিধান’ সরকারি চাকরি বিধি ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বহাল থাকলে কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই দ্রুত এ বিধান বাতিল করে নতুন ও যুগোপযোগী চাকরি বিধিমালা প্রকাশের দাবি তাদের।
তবে আন্দোলনের মাঝেও যাত্রীসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানান কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন, তবে মেট্রো রেলের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার শর্তেই কর্মসূচি চলবে বলে স্পষ্ট করে জানান আন্দোলনকারীরা।
কর্মীদের ভাষায়, “আমরা যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলতে চাই না। সেবা অব্যাহত রেখেই আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরছি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও আন্দোলনের বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ছবি সংগীত