ডেস্ক রিপোর্ট ঢাকা প্রতিনিধ| সিলেটি চ্যানেল
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনের চলাচল
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ঢুকে মা ও তার কিশোরী মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন গৃহবধূ লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ। নাফিসা স্থানীয় একটি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, সোমবার সকালে গৃহকর্তা আজিজুল ইসলাম কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তিনি চলে যাওয়ার পর বাসায় ছিলেন লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা। কিছু সময় পর বাসায় ফিরে আসলে ঘরে ঢুকেই স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এ সময় কিশোরী নাফিসা জীবিত থাকলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ছিলেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিসা বিনতে আজিজকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলেই লায়লা আফরোজের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে লায়লা আফরোজের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ ও বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজ পর্যালোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটের দিকে এক তরুণী সাদা রঙের সালোয়ার কামিজ, প্রিন্টের ওড়না এবং পায়ে কেডস জুতা পরে ভবনের সিঁড়ি দিয়ে ধীরস্থিরভাবে নিচে নামছেন। তার পিঠে একটি ব্যাগ ছিল এবং মুখে মাস্ক পরা ছিল।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, ভবনের মূল ফটকে ওই সময় তিনজন ব্যক্তি বসা ছিলেন। তরুণী বের হওয়ার সময় তাদের একজন উঠে দাঁড়িয়ে গেট খুলে দেন। এরপর ওই তরুণী ভবন থেকে বের হয়ে একটি অটোরিকশায় উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, ওই তরুণী নিহত নাফিসার বাসার গৃহকর্মী হতে পারেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর নাফিসার পোশাক পরেই তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের আত্মীয়-স্বজন, ভবনের বাসিন্দা এবং আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, বাসার গৃহকর্মী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি ভবনের অন্যান্য বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী ও এলাকার অটোরিকশাচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
---
© Copyrights | Sylheti Channel
এই সংবাদটি সম্পূর্ণ নিজস্ব ভাষায়, যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। অনুমতি ছাড়াই আংশিক বা সম্পূর্ণ কপি, পুনঃপ্রকাশ বা বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধ।