সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা,
প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ |সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনের সময় সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার পথ প্রশস্ত করার অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামেই এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এ আদেশ ঘোষণা করে। আদালতের আদেশে বলা হয়—জয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে গ্রহণযোগ্য প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো এবং অবিলম্বে তাকে আদালতে হাজির করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের আরও তিন সাবেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
একই মামলায় ট্রাইব্যুনাল আরও তিনজন সাবেক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন গ্রহণ করেছে
সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক,
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক,
সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
উল্লেখ্য, পলক, আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমান—এই তিনজনই ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কারাগারে আছেন। নতুন গঠিত মামলার অভিযোগ শুনানিতে তাদের শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আগামী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
ইন্টারনেট বন্ধ করে তথ্য গোপন—অভিযোগপত্রে গুরুতর তথ্য
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেয়, তাতে উল্লেখ করা হয়—জুলাই আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ঢাকাসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়।
তদন্ত সংস্থার দাবি—
ইন্টারনেট বন্ধের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা, গণবিক্ষোভ দমন করা এবং সম্ভাব্য গণহত্যার ঘটনাগুলোকে বিশ্বের চোখের আড়ালে রাখা।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আন্দোলনরত জনগণের ওপর চালানো সহিংস অভিযান যাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্যই ইন্টারনেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারীদের কাছে পলকের জবানবন্দি—পরিকল্পনায় জয়ের সম্পৃক্ততা
ট্রাইব্যুনালের নথিতে উল্লেখ রয়েছে—তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক স্বীকার করেছেন যে,
ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় সজীব ওয়াজেদ জয় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।
পলকের এই স্বীকারোক্তি মামলার অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের নজরে আসে এবং আদালত তাই জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি
ট্রাইব্যুনাল জানায়, মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১০ ডিসেম্বর। ওই দিনে অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
আদালত আরও বলে—অভিযুক্তদের উপস্থিতি ছাড়া মামলার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের হাজির করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন
এ মামলার আদেশ প্রকাশের পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জুলাই আন্দোলন, ইন্টারনেট শাটডাউন, এবং সে সময়ের সহিংস পরিস্থিতিকে ঘিরে দায়-দায়িত্ব প্রশ্নে দেশজুড়ে বিতর্ক আবারও ওঠে এসেছে।
এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আরেকটি অধ্যায় তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ছবি সংগৃহীত।